আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে যেসব ভোটার তাদের ভোটার এলাকা বদলাতে চান, তাদের জন্য সুখবর দিয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। মাঠ পর্যায়ের কার্যালয়ে ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রম পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
আগের নির্দেশনা কী ছিল
গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে নির্বাচন কমিশন থেকে পাঠানো এক পত্রে বলা হয়েছিল, আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার স্থানান্তর সংক্রান্ত আবেদনসমূহ আগামী ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। এই নির্দেশনা মূলত নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আবেদন প্রক্রিয়াকরণের লক্ষ্যে দেওয়া হয়েছিল।
নতুন সিদ্ধান্ত — কার্যক্রম পুনরায় চালু
২৩ সেপ্টেম্বর তারিখে পাঠানো নতুন এক চিঠিতে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, মাঠ পর্যায়ের কার্যালয়ে ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রম পূর্বের নিয়মেই আবার চালু থাকবে। এই চিঠির মাধ্যমে দেশের সব উপজেলা ও থানা নির্বাচন অফিসকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে —
- ভোটার স্থানান্তরের আবেদন গ্রহণ করতে,
- আবেদন যাচাই-বাছাই করতে,
- এবং যাচাই শেষে আবেদন ইস্যু ও নিষ্পত্তি করতে।
কারা আবেদন করতে পারবেন
যেসব ভোটার তাদের বর্তমান বাসস্থান পরিবর্তন করেছেন এবং যাদের ভোটার এলাকা এখনো পুরাতন ঠিকানায় নিবন্ধিত রয়েছে, তারা এই সুযোগে ভোটার স্থানান্তরের আবেদন করতে পারবেন।
ভোটার স্থানান্তরের আবেদন প্রক্রিয়া
ভোটার স্থানান্তরের জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে:
১. যে এলাকায় স্থানান্তর হতে চান, সেই এলাকার উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ফরম-১৩ সংগ্রহ করতে হবে।
২. ফরমের সাথে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে।
৩. বর্তমান ঠিকানার প্রমাণপত্র সংযুক্ত করতে হবে।
৪. স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে ফরম সত্যায়ন করাতে হবে।
৫. আবেদন জমার পর নির্বাচন অফিস তা যাচাই-বাছাই করে নিষ্পত্তি করবে।
কেন এই আপডেট গুরুত্বপূর্ণ
ভোটার এলাকা সঠিক ঠিকানার সাথে না মিললে স্থানীয় নির্বাচনে ভোটদান, এনআইডি সংশোধন এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই যাদের আবাসস্থল পরিবর্তন হয়েছে, তাদের জন্য এই কার্যক্রম কাজে লাগানো গুরুত্বপূর্ণ।
উপসংহার
মাঠ পর্যায়ে ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ায় ভোটারদের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা যাচ্ছে। যাদের এলাকা পরিবর্তনের প্রয়োজন, তারা দ্রুত নিকটস্থ উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন।




