Home » বাংলাদেশের শিক্ষা বিষয়ক তথ্য » সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি আবেদন (A টু Z)

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি আবেদন (A টু Z)

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি আবেদন প্রক্রিয়ার নির্দেশিকা চিত্র

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকাই শিক্ষক বদলি আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে বিভ্রান্তিতে থাকেন — কার কাছে আবেদন করতে হবে, কোথায় জমা দিতে হবে, আর কী কী শর্ত পূরণ করলে তবেই আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সবশেষ পরিপত্র অনুযায়ী পুরো বিষয়টি ধাপে ধাপে সহজ ভাষায় বোঝানো হলো।

বদলির আবেদন কার বরাবর করবেন?

বদলির ধরন অনুযায়ী আবেদনের প্রাপক ভিন্ন ভিন্ন হয়। নিজের বিদ্যালয় থেকে কতদূরে যেতে চাইছেন — সেই পরিসর অনুযায়ী সঠিক কর্তৃপক্ষকে বেছে নিতে হবে।

নিজ বিভাগের বাইরে বা সিটি কর্পোরেশনে বদলি হতে চাইলে আবেদনটি যাবে মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং একইসাথে সভাপতি, জাতীয় কমিটি (ঢাকা) বরাবর।

একই বিভাগের মধ্যে বদলি হতে চাইলে (সিটি কর্পোরেশন বাদে) আবেদন করতে হবে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার ও অন্তঃ বিভাগ কমিটির সভাপতি বরাবর।

নিজ জেলার মধ্যেই বদলি চাইলে (পৌরসভাসহ, তবে সিটি কর্পোরেশন বাদে) আবেদনের ঠিকানা হবে জেলা প্রশাসক ও জেলা কমিটির সভাপতি।

উপজেলা বা থানার ভেতরেই বদলি চাইলে আবেদনটি যাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা কমিটির সভাপতি বরাবর।

আবেদন জমা দেবেন কোথায়?

আবেদনপত্র সরাসরি সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্য-সচিবের কার্যালয়ে জমা দিতে হয়। কমিটিভেদে সদস্য-সচিব কে হবেন তা নিচে দেওয়া হলো —

  • জাতীয় কমিটির ক্ষেত্রে সদস্য-সচিব থাকেন পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন), প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
  • আন্তঃ বিভাগ কমিটির ক্ষেত্রে দায়িত্বে থাকেন বিভাগীয় উপপরিচালক (প্রাথমিক শিক্ষা)।
  • জেলা কমিটির ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তথা DPEO।
  • উপজেলা কমিটির ক্ষেত্রে দায়িত্বে থাকেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তথা TEO।

আবেদনের আগে যেসব শর্ত অবশ্যই জানা দরকার

আবেদন করার আগে নিচের শর্তগুলো ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত, নইলে আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে।

চাকরির মেয়াদ: চাকরিতে যোগদানের পর কমপক্ষে ২ বছর পূর্ণ না হলে কোনো সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা বদলির জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না।

পুনঃবদলির নিয়ম: একবার বদলি হওয়ার পর অন্তত ৩ বছর পার না হলে ওই শিক্ষক আবার বদলির আবেদন করতে পারবেন না।

শূন্য পদের শর্ত: বদলি কার্যকর হবে কেবল তখনই, যখন গন্তব্য বিদ্যালয়ে শূন্য পদ থাকবে।

শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতের বাধা: যেসব বিদ্যালয়ে ৫ জন বা তার কম শিক্ষক কর্মরত আছেন, কিংবা শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১:৪০ এর বেশি, সেসব বিদ্যালয় থেকে কাউকে বদলি করা যাবে না।

অগ্রাধিকারের নিয়ম: একই বিদ্যালয়ে একাধিক শিক্ষক আবেদন করলে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এছাড়া স্বামীর কর্মস্থল বা স্থায়ী ঠিকানার কাছাকাছি বিদ্যালয়ে বদলি চাইলে শিক্ষিকারা বিশেষ অগ্রাধিকার পান।

সংক্ষেপে যা মনে রাখবেন

বদলির আবেদন করার আগে নিজের চাকরির মেয়াদ, আগের বদলির তারিখ, বর্তমান বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংখ্যা ও শিক্ষার্থী অনুপাত — এই বিষয়গুলো যাচাই করে নিন। এরপর বদলির পরিসর অনুযায়ী সঠিক কমিটি ও সদস্য-সচিবের কার্যালয়ে যথাযথ ফরম্যাটে আবেদন জমা দিলে প্রক্রিয়াটি অনেক সহজ ও ঝামেলাহীন হয়ে যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top