(driving license hariye gele ki korben | duplicate license bd)
রাস্তায় চলাচলের জন্য বর্তমানে ড্রাইভিং লাইসেন্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে অনেক সময় অসাবধানতার কারণে লাইসেন্স হারিয়ে যায়, যা আমাদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
👉 অনেকেই তখন গুগলে সার্চ করেন—
“ড্রাইভিং লাইসেন্স হারিয়ে গেলে করণীয়”
তবে ভালো খবর হলো, লাইসেন্স হারিয়ে গেলেও সহজেই ডুপ্লিকেট কপি তোলা যায়।
এজন্য, সঠিক নিয়ম জানা থাকলেই আপনি ঝামেলা ছাড়াই নতুন লাইসেন্স পেতে পারেন।
- ড্রাইভিং লাইসেন্স হারিয়ে গেলে প্রথমে কি করবেন?
- ড্রাইভিং লাইসেন্সের ডুপ্লিকেট করতে যা যা লাগবে
- ড্রাইভিং লাইসেন্স ডুপ্লিকেট ফি কত?
- আবেদন করার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া
- কত দিনে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাবেন?
- গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
- দরকারি টিপস (Real Experience)
- ❓ FAQ
- ড্রাইভিং লাইসেন্স হারিয়ে গেলে করণীয় (Step + Fee Summary)
- শেষকথা
ড্রাইভিং লাইসেন্স হারিয়ে গেলে প্রথমে কি করবেন?
লাইসেন্স হারানোর পর দেরি না করে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
✔ ১. থানায় জিডি (GD) করুন
প্রথমত, আপনার নিকটস্থ থানায় গিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে।
এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, কারণ এটি প্রমাণ করে যে আপনার লাইসেন্স হারিয়ে গেছে।
✔ ২. ট্রাফিক ক্লিয়ারেন্স নিন
এরপর, ট্রাফিক কন্ট্রোল অফিসে গিয়ে জিডির কপি জমা দিতে হবে।
সেখানে, আপনার লাইসেন্সের বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কিনা যাচাই করা হয়।
👉 সব ঠিক থাকলে আপনাকে ট্রাফিক ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হবে।
✔ ৩. ডুপ্লিকেট লাইসেন্সের জন্য আবেদন করুন
পরবর্তীতে, আপনি যে এলাকায় লাইসেন্স করেছিলেন, সেই বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ অফিসে আবেদন করতে হবে।
ড্রাইভিং লাইসেন্সের ডুপ্লিকেট করতে যা যা লাগবে
আবেদন করার সময় নিচের কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন:
- জিডির কপি
- ট্রাফিক ক্লিয়ারেন্স
- পুরাতন লাইসেন্সের ফটোকপি (থাকলে)
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) কপি
- ১–২ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- নির্ধারিত আবেদন ফরম
📌 তাছাড়া, সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করা খুব জরুরি।
ড্রাইভিং লাইসেন্স ডুপ্লিকেট ফি কত?
বর্তমানে প্রায় ৮৭৫ টাকা ফি দিতে হয়
📌 তবে সময় অনুযায়ী এই ফি পরিবর্তন হতে পারে
তাই, আবেদন করার আগে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়া ভালো
আবেদন করার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া
নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
🔹 Step 1: ফরম পূরণ
প্রথমে BRTA নির্ধারিত ফরম সংগ্রহ করে পূরণ করুন
🔹 Step 2: ব্যাংকে ফি জমা
এরপর নির্ধারিত ব্যাংকে ফি জমা দিয়ে রসিদ সংগ্রহ করুন
🔹 Step 3: কাগজপত্র জমা
সব কাগজপত্র একসাথে BRTA অফিসে জমা দিন
🔹 Step 4: যাচাই ও রিসিপ্ট
কাগজ যাচাই শেষে আপনাকে একটি রিসিপ্ট দেওয়া হবে
👉 এই রিসিপ্টটি খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি সাময়িকভাবে লাইসেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যায়
🔹 Step 5: লাইসেন্স সংগ্রহ
সবশেষে, SMS এর মাধ্যমে আপনাকে লাইসেন্স সংগ্রহের তারিখ জানানো হবে
👉 নির্ধারিত দিনে গিয়ে লাইসেন্স সংগ্রহ করুন
কত দিনে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাবেন?
সাধারণত ৭–১৫ দিনের মধ্যে লাইসেন্স প্রস্তুত হয়
📌 তবে কিছু ক্ষেত্রে সময় বেশি লাগতে পারে
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
👉 লাইসেন্স না পাওয়া পর্যন্ত রিসিপ্ট সঙ্গে রাখুন
👉 ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে
👉 সবসময় কাগজপত্রের কপি সংরক্ষণ করুন
দরকারি টিপস (Real Experience)
- অনেকেই থানায় যেতে ভয় পান, কিন্তু বাস্তবে এটি খুব সহজ একটি প্রক্রিয়া
- এছাড়া, লাইসেন্সের soft copy ফোনে রেখে দিলে ভবিষ্যতে সুবিধা হয়
- ফলে, হারিয়ে গেলেও দ্রুত তথ্য পাওয়া যায়
বিস্তারিত তথ্য জানতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ এর অফিসিয়াল নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
❓ FAQ
নিচে সংক্ষেপে পুরো প্রক্রিয়া টেবিল আকারে দেখানো হলো:
ড্রাইভিং লাইসেন্স হারিয়ে গেলে করণীয় (Step + Fee Summary)
| ধাপ | করণীয় | প্রয়োজনীয় কাগজ | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ১ | থানায় জিডি (GD) করা | NID / তথ্য | লাইসেন্স হারানোর প্রমাণ |
| ২ | ট্রাফিক ক্লিয়ারেন্স নেওয়া | জিডি কপি, লাইসেন্স কপি (যদি থাকে) | কোনো মামলা আছে কিনা যাচাই |
| ৩ | আবেদন ফরম পূরণ | BRTA ফরম | সঠিক তথ্য দেওয়া জরুরি |
| ৪ | ফি জমা দেওয়া | ব্যাংক রসিদ | প্রায় ৮৭৫ টাকা |
| ৫ | কাগজপত্র জমা | ছবি, NID, জিডি, ক্লিয়ারেন্স | সব একসাথে জমা দিতে হবে |
| ৬ | রিসিপ্ট সংগ্রহ | BRTA থেকে | সাময়িক লাইসেন্স হিসেবে ব্যবহারযোগ্য |
| ৭ | লাইসেন্স সংগ্রহ | SMS / টোকেন | ৭–১৫ দিনের মধ্যে পাওয়া যায় |
শেষকথা
ড্রাইভিং লাইসেন্স হারিয়ে গেলে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।
👉 সঠিক নিয়ম অনুসরণ করলে খুব সহজেই নতুন লাইসেন্স পাওয়া যায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সময় নষ্ট না করে দ্রুত জিডি করা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা।
তাহলে, পুরো প্রক্রিয়াটি আপনার জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে।



